শিরোনাম
আপনার শিশুকে সবজি খাওয়ানোর সহজ কিছু উপায়
আপনার শিশুকে সবজি খাওয়ানোর সহজ কিছু উপায়

শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ানো সব বাবা-মার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সবজি, যা অনেক সময় শিশুরা খেতে চায় না। তবে সঠিক পদ্ধতি এবং কিছু সহজ কৌশল ব্যবহার করলে শিশুরা নতুন স্বাদে অভ্যস্ত হয় এবং স্বাভাবিকভাবে সবজি খেতে

চলুন জেনে নিই পাঁচটি কার্যকর উপায়, যা ছোটদের সবজি খাওয়াকে সহজ ও মজাদার করে তোলে।

সবজি রোস্ট করুন

রোস্ট করলে সবজি আরও সুস্বাদু হয়। বড় সবজি ১ ইঞ্চি করে কেটে নিন, ছোটগুলো পুরো রাখুন। অলিভ অয়েল দিয়ে মিশিয়ে ৪০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ওভেনে দিন। মাঝে মাঝে নেড়ে নিন। সবজি সুন্দরভাবে ভাজা ও কোমল হলে পরিবেশন করুন। ব্রকোলি, গাজর, আলু, ফুলকপি... সব রোস্ট করা যায়। হালকা ক্রাঞ্চি সল্ট দিলে ছোটদের আরও ভালো লাগে।

 

শিশুদের রান্নার কাজের অংশ নিতে দিন

ছোটদের জন্য সবজি খোসা ছাড়ানো বা ধোয়া মজার কাজ হতে পারে। গাজর, শসা, আলুর খোসা ছাড়ানো তাদের জন্য মজার ও সহজ কাজ। তাদেরকে ছোট ছোট কাজগুলো করতে দিন।

সবজি নুডলস বানান

স্পাইরালাইজার দিয়ে জুকিনি, স্কোয়াশ, বিট, গাজর, শশা বা আলু নুডল আকারে কেটে দিন। নুডল দেখে শিশুরা আগ্রহী হয়। বড়রা ব্লেড ধরে রাখুন, যেন আপনার সন্তান সবজি নুডল তৈরি করতে পারে।

সুপ তৈরি করুন

ছোটরা অনেক সময় সুপ পছন্দ করে। গাজর, ব্রকোলি, ফুলকপি বা আলু দিয়ে ক্রিমি সুপ বানান। আপনার শিশুকে হ্যান্ড ব্লেন্ডার দিয়ে মেশাতে দিন। চাইলে টক দই, ক্রাউটন বা কিছু হার্ব দিয়ে সুপ সাজাতে পারেন, শিশুরা আরও খেতে উৎসাহিত হবে।

সবজি মাশ (Mash) করুন

শিশুরা সাধারণত মাশ করা (ভর্তা করা) খাবার পছন্দ করে। আলুর সঙ্গে গাজর, ফুলকপি, ব্রকলি মাশ করে দিতে পারেন।

ছোট পরামর্শ : যেসব বাচ্চারা একটু বেছে খায়, তাদের নিয়ে বেশি চিন্তা করবেন না। সময়ের সঙ্গে তারা নতুন খাবারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।

সবজি খাওয়ানোকে চাপ মনে করবেন না। মজাদার পদ্ধতি ও ছোট কাজ দিয়ে শিশুদের আগ্রহ তৈরি করুন। রোস্ট করা, সুপ, নুডল বা মাশ করা; সবই কাজ করে। ধীরে ধীরে বাচ্চআরা নতুন স্বাদে অভ্যস্ত হবে এবং স্বাস্থ্যকর সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে।

নিপাহ ভাইরাসে নারীর মৃত্যু, এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে উচ্চ সতর্কতা
নিপাহ ভাইরাসে নারীর মৃত্যু, এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে উচ্চ সতর্কতা

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উত্তরাঞ্চলের এক নারী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ ঘটনায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরগুলোতে জোরদার করা হয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বাংলাদেশে আক্রান্ত ওই নারী ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ছিলেন। তিনি ২১ জানুয়ারি এই ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হন। শুরুতে জ্বর ও মাথাব্যথা দেখা দেয়, পরে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ, দিকভ্রান্তি ও খিঁচুনির মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়। এক সপ্তাহ পর তার মৃত্যু হয় এবং মৃত্যুর একদিন পর পরীক্ষায় নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়।

এ ঘটনায় আক্রান্ত নারীর সংস্পর্শে আসা ৩৫ ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাদের সবার পরীক্ষার ফল নিপাহ ভাইরাসের জন্য নেগেটিভ এসেছে। এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও দুটি নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর ফলে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরগুলোতে জোরদার করা হয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা।

উল্লেখ্য, নিপাহ ভাইরাস সাধারণত বাদুড় দ্বারা দূষিত ফল বা খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে ছড়ায়। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে এটি সংক্রামক রোগ নয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ বিমানবন্দরে তাপমাত্রা পরীক্ষা চালু করেছে। তবে এ কারণে কোনো ধরনের ভ্রমণ বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়নি।

সূত্র : আরব নিউজ